👉 জৈনধর্মের ইতিহাস - প্রশ্ন ও উত্তর ঃ-
১. জৈনধর্মে মোট কতজন তীর্থঙ্কর ছিলেন ? ***
উত্তর ঃ জৈন ধর্মমত অনুসারে মোট ২৪ জন ধর্মগুরু বা তীর্থঙ্কর ছিলেন ।
২. জৈনদের প্রথম তীর্থঙ্করের নাম কী ছিল ? *
উত্তর ঃ ঋষভদেব বা ঋষভনাথ ছিলেন জৈনদের প্রথম তীর্থঙ্কর।
৩. জৈনদের ২৩ তম তীর্থঙ্করের নাম কী ছিল ?*
উত্তর ঃ পার্শ্বনাথ বা পরেশনাথ ছিলেন জৈনদের ২৩ তম তীর্থঙ্কর।
৪. জৈনদের ২৪ তম তীর্থঙ্করের নাম কী ছিল ? *
উত্তর ঃ জৈনদের ২৪ তম তীর্থঙ্করের নাম ছিল মহাবীর ।
৫. মহাবীরের জন্ম কবে এবং কোথায় হয়েছিল ?
উত্তর ঃ মহাবীরের জন্ম হয়েছিল আনুমানিক ৫৪০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে । তিনি উত্তর বিহারের বৈশালীর কুন্দগ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ।
৬. মহাবীরের বাল্যনাম কী ছিল ?
উত্তর ঃ মহাবীরের বাল্যনাম ছিল বর্ধমান ।
৭. মহাবীরের পিতা কে ছিলেন ?
উত্তর ঃ মহাবীরের পিতা ছিলেন সিদ্ধার্থ । তিনি ছিলেন জ্ঞাত্রিক গোষ্ঠীর নেতা ।
৮. মহাবীরের মাতা কে ছিলেন ?
উত্তর ঃ মহাবীরের মাতা ছিলেন ত্রিশলাদেবী । তিনি ছিলেন লিচ্ছবিরাজ চেতকের বোন ।
৯. কার সাথে মহাবীরের বিবাহ হয়েছিল ?
উত্তর ঃ যশোদা নামে এক ক্ষত্রিয় রাজকন্যার সাথে মহাবীরের বিবাহ হয়েছিল ।
১০. মহাবীরের কন্যার নাম কী ছিল ?
উত্তর ঃ মহাবীরের কন্যারত নাম ছিল আনজ্জা বা প্রিয়দর্শনা ।
১১. কত বছর বয়সে মহাবীর গৃহত্যাগ করেছিলেন ?
উত্তর ঃ মহাবীর গৃহত্যাগ করেছিলেন মাত্র ৩০ বছর বয়সে ।
১২. কত বছর তপস্যা করে মহাবীর দিব্যজ্ঞান লাভ করেছিলেন ?
উত্তর ঃ ১২ বছর তপস্যা করে জৈনধর্মের ২৪ তম তীর্থঙ্কর মহাবীর দিব্যজ্ঞান লাভ করেছিলেন ।
১৩. বর্ধমানের নাম কীভাবে মহাবীর হয়েছিল ?
উত্তর ঃ দীর্ঘ ১২ বছর তপস্যা করে বর্ধমান প্রথমে 'কৈবল্য' বা সর্বজ্ঞ , এরপর তিনি 'জিন' বা জিতেন্দ্রিয় এবং সর্বশেষ তিনি 'মহাবীর' হয়েছিলেন ।
১৪. মহাবীর কোথায় কোথায় নিজের ধর্ম প্রচার করেছিলেন ?
উত্তর ঃ কোশল , অঙ্গ , মগধ , চম্পা , মিথিলা , শ্রাবস্তী প্রভৃতি স্থানে তিনি নিজের ধর্ম প্রচার করেছিলেন।
১৫. মগধের কোন কোন রাজা জৈনধর্মের অনুরাগী ছিলেন ?
উত্তর ঃ বিম্বিসার , অজাতশত্রু ও চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য জৈনধর্মের অনুরাগী ছিলেন ।
১৬. কবে এবং কোথায় মহাবীরের দেহত্যাগ ঘটে ?
উত্তর ঃ আনুমানিক ৪৬৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বিহারের রাজগীরের পাবাপুরীতে মহাবীর অনশন করে মৃত্যুবরণ করেছিলেন ।
১৭. চতুর্যাম নীতি কে প্রবর্তন করেছিলেন ? *
উত্তর ঃ চতুর্যাম নীতি প্রবর্তন করেছিলেন জৈনধর্মের ২৩ তম তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথ বা পরেশনাথ ।
১৮. চতুর্যাম গুলি কী কী ?
উত্তর ঃ চতুর্যাম গুলি হল - (ক) অহিংসা (খ) সত্যবাদিতা (গ) অচৌর্য (ঘ) অপরিগ্রহ অর্থাৎ কোনো বস্তুর প্রতি আসক্তি না রাখা ।
১৯. পঞ্চমহাব্রত কী ? *
উত্তর ঃ চতুর্যামের সাথে ব্রহ্মচর্য -কে যুক্ত করে মহাবীর পঞ্চমহাব্রত নীতির প্রবর্তন করেছিলেন ।
২০. ত্রিরত্ন কী ?
উত্তর ঃ জীবনের কালচক্র থেকে মুক্তির জন্য জৈনধর্মে তিনটি পথ অনুসরণের কথা বলা হয় , এগুলি ত্রিরত্ন নামে পরিচিত । এই তিনটি পথ হল - (ক) সৎ জ্ঞান (খ) সৎ বিশ্বাস (গ) সৎ আচরণ ।
২১. 'সর্বপ্রাণবাদতত্ত্ব' কারা প্রচার করেন ?
উত্তর ঃ 'সর্বপ্রাণবাদতত্ত্ব' প্রচার করেন জৈনরা । 'সর্বপ্রাণবাদতত্ত্ব' অনুসারে জৈনরা ইট , কাঠ নদী সবকিছুতেই প্রাণের অস্তিত্ব মনে করতেন ।
২২. জৈন ধর্মের কয়টি ভাগ অ কী কী ?
উত্তর ঃ পোশাক পরিধানকে কেন্দ্র করে জৈনদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয় এবং তারা দুটি অংশে ভাগ হয়ে যায় । একটি হল দিগম্বর এবং অন্যটি হল শ্বেতাম্বর ।
২৩. দিগম্বর কাদের বলা হয় ? *
উত্তর ঃ যেসব জৈনধর্মের অনুরাগীরা মহাবীরের আদর্শ অনুযায়ী পরিধেয় বস্ত্র ত্যাগ করার কথা দাক্ষিণাত্যে গিয়ে প্রচার করেছিলেন তাদের জৈনধর্মে দিগম্বর বলা হয় । দিগম্বরদের নেতা ছিলেন ভদ্রবাহু ।
২৪. শ্বেতাম্বর কাদের বলা হয় ? *
উত্তর ঃ যেসব জৈনধর্মের অনুরাগীরা পার্শ্বনাথের আদর্শকে মেনে শ্বেতবস্ত্র পরিধান করে নগ্নতাকে আশ্রয় না করে উত্তর ভারতে জৈনধর্মের প্রচার চালিয়েছিলেন তাদের শ্বেতাম্বর বলা হয় । শ্বেতাম্বরদের নেতা ছিলেন স্থুলভদ্র ।
২৫. জৈনদের প্রথম লিখিত গ্রন্থের নাম কী ?
উত্তর ঃ 'কল্পসূত্র' ছিল জৈনদের প্রথম লিখিত গ্রন্থ। যেটি ভদ্রবাহু রচনা করেছিলেন ।
২৬. অনেকান্তবাদ ,ন্যায়বাদ , স্যাদবাদ -এগুলি কোন ধর্মের সাথে জড়িত ?
উত্তর ঃ অনেকান্তবাদ ,ন্যায়বাদ , স্যাদবাদ -এগুলি জৈন ধর্মের সাথে জড়িত ।
২৭. প্রথম জৈন সম্মেলন সম্পর্কে লেখ ।
উত্তর ঃ আনুমানিক ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মগধের রাজধানী পাটলিপুত্রে প্রথম জৈন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল । এই সম্মেলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন স্থুলভদ্র । এই সম্মেলনে জৈনদের উপদেশগুলিকে বারোটি খন্ডে সংকলিত করা হয়েছিল যাকে 'দ্বাদশ অঙ্গ' বা 'সিদ্ধান্ত' বলা হয়ে থাকে । এটি অর্ধ-মাগধী ভাষায় রচিত ।
২৮. দ্বিতীয় জৈন সম্মেলন সম্পর্কে লেখ ।
উত্তর ঃ খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে গুজরাটের বলভীতে দ্বিতীয় জৈন সম্মেলনটি হয়েছিল । এই সম্মেলনে 'দ্বাদশ অঙ্গ'-কে পুনর্মূল্যায়ন করে প্রাকৃত ভাষায় 'দ্বাদশ উপাঙ্গ' রচনা করা হয় । এর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হল (ক) অঙ্গ (খ) উপাঙ্গ (গ) মূল ও (ঘ) সূত্র ।
২৯. মহাবীর কোথায় তপস্যা করে কৈবল্য লাভ করেছিলেন ?
উত্তর ঃ মহাবীর জুম্ভিকা গ্রামে ঋজুপালিকা নদীর তীরে শাল গাছের নীচে বসে তপস্যা করে কৈবল্য লাভ করেছিলেন ।
৩০. জিন শব্দের অর্থ কী ? *
উত্তর ঃ জিন শব্দের অর্থ হল জিতেন্দ্রিয় ।
৩১. কৈবল্য শব্দের অর্থ কী ? *
উত্তর ঃ কৈবল্য শব্দের অর্থ হল সর্বজ্ঞ ।
৩২. মহাবীরের প্রথম শিষ্যের নাম কী ? **
উত্তর ঃ মহাবীরের প্রথম শিষ্য ছিলেন তাঁর জামাতা জামেলি ।
৩৩. 'স্যাদ' কথাটির অর্থ কী ? **
উত্তর ঃ 'স্যাদ' কথাটির অর্থ হল 'হতে পারে' ।
৩৪. দৃষ্টিবাদ গ্রন্থের রচয়িতা কে ?
উত্তর ঃ দৃষ্টিবাদ গ্রন্থের রচয়িতা হলেন স্থুলভদ্র ।
৩৫. মহাবীর কোন ভাষায় ধর্মপ্রচার করতেন ?
উত্তর ঃ মহাবীর অর্ধ-মাগধী ভাষায় তাঁর ধর্মপ্রচার করতেন ।
৩৬. 'Apathramsa' এটি কোন ধর্মের বিষয় ?
উত্তর ঃ এটি জৈনধর্মের একটি বিষয় ।
৩৭. কোন জৈন সাধকের সাথে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য দক্ষিণ ভারতে গমন করেছিলেন ?
উত্তর ঃ জৈন সাধক ভদ্রবাহুর সাথে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য দক্ষিণ ভারতে গিয়েছিলেন ।
৩৮. 'নির্গ্রন্থ নটপুত্র' কাকে বলা হয় ? ***
উত্তর ঃ বর্ধমান মহাবীরকে 'নির্গ্রন্থ নটপুত্র বলা হয়ে থাকে ।
|
তীর্থঙ্কর
|
প্রতীক |
|
ঋষভনাথ |
ষাঁড় * |
|
পদ্মপ্রভ |
পদ্ম |
|
অজিতনাথ |
হাতি |
|
সুপার্শ্বনাথ |
স্বস্তিক |
|
সম্ভবনাথ |
ঘোড়া |
|
চন্দ্রপ্রভ |
অর্ধচন্দ্র |
|
অভিনন্দনাথ |
বাঁদর |
|
সুবিধিনাথ |
শুশুক |
|
সুমতিনাথ |
চক্রবাক পক্ষীবিশেষ |
|
শীতলানাথ |
কল্পবৃক্ষ |
|
শ্রেয়ংসনাথ |
গরুড় |
|
অনন্তনাথ |
ভাল্লুক |
|
বাসুপুজ্য |
মহিষ |
|
ধর্মনাথ |
ব্যাঘ্রদন্ত |
|
বিমলনাথ |
বরাহ / ভাল্লুক |
|
শান্তিনাথ |
হরিণ |
|
কুন্ঠুনাথ |
ছাগল |
|
মনিসুব্রত |
কচ্ছপ |
|
অরনাথ |
মাছ |
|
নেমিনাথ |
নীলপদ্ম |
|
মল্লিনাথ |
কলসি * |
|
অরিষ্ট-নেমিনাথ |
শঙ্খ |
|
পার্শ্বনাথ |
সর্প * |
|
বর্ধমান মহাবীর |
সিংহ * |

0 Comments